পেকুয়ায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে মারধর, বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় যৌতুকের দাবীতে উম্মে সালমা (২১)নামের এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি উপজেলার উজানটিয়া ইউপির ষাটদুনিয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। রবিবার সান্ধায় বিচারের দাবীতে পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাব হলরুমে এসে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামীর নাম মিনহাজ উদ্দিন (২৩) এবং পিতার নাম জামাল হোসেন। আমার স্বামী উজানটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তারা সবাই আওয়ামীলীগ পরিবারের লোকজন। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করতো৷ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রেমের সম্পর্কে আমাদের দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস আমাদের সংসার ঠিকঠাকমত চললেও কিছুদিন পর যৌতুকের দাবীতে আমার স্বামী মিনহাজ এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে শুরু করে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না দিলে আমাকে সংসার করতে দিবেনা বলে আমার বাবা-মাকে হুমকি দেখায়। সংসার বাঁচাতে ধারদেনা করে তিন লাখ টাকা যৌতুক দেয় আমার পরিবার। টাকা দেওয়ার পর কিছুদিন সংসার ভালো চলে। কিন্তু তারপর আবারও যৌতুক দাবি করে পাঁচ লক্ষ টাকা। কারণ দেখায় আমার স্বামী বিদেশে যাবে।আমি অত্যান্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। প্রথম তিন লক্ষ টাকা দিলেও তাদের পক্ষে আর টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আমার উপর আবারও শুরু হয় নির্যাতন। স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে প্রতিদিন চালাতে থাকে অমানবিক নির্যাতন। জখম করে আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে। সর্বশেষ গত ২১জুন আমাকে সবাই মিলে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং স্থানীয়রা মিলে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান৷
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গৃহবধূ আরও বলেন, অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় হল আমাদের বিয়ের সময় দেনমোহর দেওয়ার কথা ছিলো ১০ লক্ষ টাকা। যারমধ্যে ৫০ হাজার টাকা উশুল এবং সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা বাকি থাকার কথা। কিন্তু সে আমার সাথে প্রতারণা করে কাবিননামায় দেনমোহর উল্লেখ করে ৯ লক্ষ টাকা। যার অর্ধেক উশুল এবং অর্ধেক বাকি। সে এটা নিয়ে আমার সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি এবং তাদের শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।





